সোমবার ০৫, অক্টোবর ২০২৬

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

ডিসেম্বরের আগেই জলাবদ্ধতাসহ সিডিএ-এর তিন মেগা প্রকল্প শেষ হবে: চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

1703

চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের আগেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বহুল প্রতিক্ষিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, বহুল আলোচিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট-চাক্তাই রিং রোড ও সংযোগ সড়ক এই তিনটি মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা হবে। এরপর দেশের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প তিনটি উদ্বোধন করবেন। তবে উদ্বোধনের আগেই নগরবাসী এসব মেগা প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে শুরু করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

আজ বুধবার (১৭ জুন) সকালে সিডিএ-এর প্রধান সম্মেলন কক্ষে সিডিএ'র সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। এর আগে আজ সকাল ৯টায় প্রথম কার্যদিবসে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তাঁর নিজ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে সিডিএ'র কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

মতবিনিময় সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য প্রতীক। অতীতের সকল আমলাতান্ত্রিক ও অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এই বাণিজ্যিক রাজধানী ও ঐতিহ্যবাহী বন্দরনগরীকে একটি আধুনিক ও নান্দনিক মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। আর এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে সিডিএ'র সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সর্বোচ্চ গতি, প্রগতিশীল সহযোগিতা ও শতভাগ আন্তরিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।’

উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিশেষ তাগিদ দিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিডিএ'র অধিকাংশ শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তার নিজ জেলা ও শেকড় এই চট্টগ্রামেই। তাই এই চট্টগ্রামের মা ও মাটির প্রতি আপনাদের একটি বাড়তি নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেজন্য কেবল গতানুগতিক সরকারি রুটিন দায়িত্ব পালনের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে, নগরের টেকসই উন্নয়নে একটি ইতিবাচক ও সেবামূলক মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। এই শহর আমাদের, তাই এর ভালো-মন্দের দায়িত্বও আমাদেরই নিতে হবে।’

নতুন চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, ‘বর্তমানে ঝুলে থাকা ও চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শেষ করাই আমাদের সামনে এখন প্রধান টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নগরবাসীর দুঃখ খ্যাত জলাবদ্ধতা নিরসন ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প দুটি দ্রুত ও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমি শিগগিরই প্রকৌশলীদের সাথে নিয়ে এই প্রকল্পগুলো সরজমিন পরিদর্শনে যাব।’

আর্থিক স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিষয়ে নিজের জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) অবস্থানের কথা কড়া ভাষায় জানিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি নিজে কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হব না এবং কর্মকর্তাদেরও এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিচ্ছি। সিডিএ-তে কোনো টেবিল টক বা ফাইল আটকে রেখে হয়রানি বরদাশত করা হবে না।’

উন্নয়ন কাজে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নগরের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বৈদ্যুতিক খুঁটি (পিলার) ও সঞ্চালন লাইনসহ বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোগত জটিলতা অনেক সময় সিডিএ'র বড় বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এসব দীর্ঘমেয়াদি সেবা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় সমন্বয় সভা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সহ অন্যান্য সেবা সংস্থা এবং জনগণের নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধিদের জনগুরুত্বপূর্ণ মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

নগরের সরকারি জমি ও নালা-খাল অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে হুংকার ছেড়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতার দাপট বা দলের উচ্চ পদমর্যাদা বিবেচনা না করে যে কেউ যদি সরকারি জমি, খাল, নালা বা ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রাখে তবে তার বিরুদ্ধে কোনো আপস ছাড়াই তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযানসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের দখলবাজির অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করবে না সিডিএ।’

গণমাধ্যমের সঙ্গে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আদান-প্রদানের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বলেন, সিডিএ-এর মতো একটি জনসেবামূলক রাষ্ট্রীয় সংস্থা সম্পর্কে জনসাধারণের মনে যেন কোনো ভুল ধারণা বা তথ্যের বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সাংবাদিকদের প্রকৃত ও হালনাগাদ তথ্য সরবরাহে কোনো ধরনের কার্পণ্য বা গড়িমসি করা যাবে না।

নগর পরিকল্পনা ও আধুনিক ভবন নির্মাণে সিডিএ অনুমোদিত নকশা (Building Code) কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পিত এলাকায় যদি কয়েকটি ভবন নিয়ম মেনে অত্যন্ত সুন্দরভাবে নির্মিতও হয়, কিন্তু মাঝখানে কেবল একটি ভবন যদি সিডিএ'র অনুমোদিত নকশা ও নিয়ম লঙ্ঘন করে আকাশচুম্বী বা এলোমেলোভাবে নির্মিত হয়, তবে পুরো এলাকার নান্দনিক সৌন্দর্য ও নাগরিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। তাই নকশাবহির্ভূত বা সিডিএ'র অনুমোদনহীন যেকোনো অবৈধ ভবন নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

মতবিনিময় সভায় সিডিএ-এর প্রকৌশলী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম শতভাগ সফলভাবে বাস্তবায়নে নতুন চেয়ারম্যানকে সর্বোচ্চ পেশাদারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ‘টিমওয়ার্ক’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা দৃঢ়ভাবে বলেন, সমন্বিত ও সৎ প্রচেষ্টার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি সুপরিকল্পিত, আধুনিক ও বিশ্বমানের নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলা অবশ্যই সম্ভব।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় সিডিএ'র পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন সার্বক্ষণিক সদস্য মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নুরী, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিমসহ সংস্থাটির সকল শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উইং প্রধানগণ। উল্লেখ্য, আজ সকালে সিডিএ-তে যোগদানের পূর্বে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন চট্টগ্রামের আধ্যাত্মিক প্রাণকেন্দ্র শাহ সুফি হযরত আমানত শাহ (রহ.)-এর পবিত্র মাজার জিয়ারত করেন এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।

Link copied!