প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ এএম
1716
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ এএম
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং দেশটির মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রী আহমেদ শিয়ামের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
সার্কভুক্ত দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সঙ্গে মৎস্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে ‘নীল অর্থনীতি’ (Blue Economy) খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ ও যৌথ উদ্যোগ বা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার (৮ জুন) মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং দেশটির প্রজাতন্ত্রের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ শিয়ামের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই সম্ভাবনাময় খাতগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মালদ্বীপের মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রী আহমেদ শিয়াম বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা, কৃষি গবেষণা ও নিত্যনতুন উদ্ভাবনে অর্জিত অভাবনীয় সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি মালদ্বীপের স্থানীয় কৃষি খাতের উন্নয়নে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি দক্ষ ও অদক্ষ রেমিট্যান্স যোদ্ধা বা শ্রমিকদের অসামান্য অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি ভবিষ্যতে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে এই বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মূলত কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি মালদ্বীপের বিশ্বখ্যাত মৎস্য খাতের উদাহরণ টেনে বলেন, *"মালদ্বীপের বিশ্বমানের টুনা মাছ শিল্প বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। এ খাতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।"*
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ ধরনের সরকারি উদ্যোগ চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সামুদ্রিক মাছের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীল অর্থনীতির এই অপার ও বিশাল সম্ভাবনাকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, সমুদ্র গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পেশাদার দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও বেশি শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে এই অনন্য সহযোগিতা সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সার্বিক উন্নয়নের এক নতুন সম্ভাবনাময় দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।