সোমবার ০৫, অক্টোবর ২০২৬

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

 তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে  আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ডের ডাক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

1717

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বড় বড় কোম্পানিগুলোর বড় অংকের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এক নতুন ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ১০০ দিনের মধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড (দরপত্র) আহ্বানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি ও বিশেষ প্রেস বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ওই বার্তায় দেশের জ্বালানি খাতের অতীত ইতিহাস স্মরণ করে বলা হয়, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের (FDI) প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর সময়েই তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দেশে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ডের সফল সূচনা করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের আওতায় তৎকালীন সময়ে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকার মোট আটটি উৎপাদন বণ্টন চুক্তি বা পিএসসি (Production Sharing Contract) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিক সাফল্য হিসেবেই বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র ‘বিবিয়ানা’ এবং দেশের ইতিহাসে প্রথম বাণিজ্যিক সমুদ্রগ্যাস ক্ষেত্র ‘সাঙ্গু’ আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা দেশের অর্থনীতিকে বছরের পর বছর ধরে সচল রেখেছে।

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন সময়ে সম্পাদিত ওই আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর সফল বাস্তবায়নের ফলেই বর্তমানে বহুজাতিক মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি ‘শেভরন’ দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করছে—যা দেশের মোট দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের সিংহভাগ বা প্রায় ৫৫ শতাংশ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্স’-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি সংকট দূর করতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ওপরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানান, বিশেষ করে গভীর ও অগভীর সমুদ্রাঞ্চলে (অফশোর) তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের মতো কার্যক্রম অত্যন্ত ব্যয়বহুল, জটিল ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। অফশোর অনুসন্ধানে সাধারণত প্রায় ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (হাজার কোটি টাকার বেশি) বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অনুসন্ধানের পর যদি ব্লকে কোনো তেল-গ্যাস না পাওয়া যায়, তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিনিয়োগকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে সরকার কোনো অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকে না। সম্পূর্ণ লস বা ক্ষতি ওই কোম্পানিকেই বহন করতে হয়।

তাই এই বিপুল ঝুঁকি মাথায় নিয়ে যেন নামী আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, সে জন্য অফশোর মডেল পিএসসির বিভিন্ন ধারা ও বিধানে যুগোপযোগী সংশোধন ও নতুন আকর্ষণীয় অফার সংযোজন করা হয়েছে। তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন এই অফশোর পিএসসি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সরকার আশা করছে, আগামী ১০০ দিনের মধ্যে দ্রুত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের ফলে বিশ্বখ্যাত বিদেশি জ্বালানি শক্তিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ দেখাবে এবং বঙ্গোপসাগরের বুকে নতুন নতুন বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে দেশের চলমান শিল্প ও আবাসিক খাতের গ্যাস সংকট দূর হয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

Link copied!