মঙ্গলবার ০৬, অক্টোবর ২০২৬

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম

আড়াইহাজারে স্বামী ও ভাইকে জিম্মি করে নারী শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

1684

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেলার গেট থেকে তুলে নিয়ে স্বামী ও ভাইকে জিম্মি করে এক নারী শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়নি। মামলা গ্রহণে পুলিশের অনীহার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে স্বামী ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে উপজেলা-সংলগ্ন একটি মেলা থেকে বের হওয়ার পথে রবিন নামে এক যুবকের নেতৃত্বে ৭-৮ জন তাদের পথ রোধ করেন। পরে তাদের পাশের একটি ভবনের নিচতলায় নিয়ে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মোবাইল ফোন চাইলে তাঁরা বাসায় রেখে আসার কথা জানান। তখন ঠিকানা নিয়ে রবিনসহ কয়েকজন বাসা থেকে ফোন নিয়ে আসেন।

এরপর মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে স্বামী ও ভাইকে একপাশে বসিয়ে রেখে ওই নারীকে ভবনের অন্য পাশে নিয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত ৭-৮ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ছাড়া পাওয়ার পর পরদিন শুক্রবার সকালে আড়াইহাজার থানায় রবিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ দেন ওই নারী। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করেছে। ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বললেও পরে তা করানো হয়নি। ভুক্তভোগী আড়াইহাজারের একটি স্পিনিং মিলের শ্রমিক।

আড়াইহাজার থানার এসআই আবদুল বাছেদ দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ হলে ভিকটিমের শরীরে যেমন অবস্থা থাকার কথা, তা পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, থানার ওসি তাঁকে সব জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীকে ছিনতাইয়ের মামলা করতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। পারিপার্শ্বিক অবস্থায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার একটি সূত্র জানায়, বিয়ের আগে অভিযুক্ত রবিনের সঙ্গে ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই ক্ষোভ থেকে রবিন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে সূত্রটির দাবি, তবে ধর্ষণের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Link copied!